ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির ফাঁদ: বীর প্রতীক ফজলুল হক চক্রের শতকোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ।

আপলোড সময় : ২৩-১২-২০২৫ ০৬:২৪:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৩-১২-২০২৫ ০৭:৪২:৪৭ অপরাহ্ন
টাঙ্গাইলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির ফাঁদ: বীর প্রতীক ফজলুল হক চক্রের শতকোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ। বীর প্রতীক ফজলুল হক

টাঙ্গাইলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির ফাঁদ: বীর প্রতীক ফজলুল হক চক্রের শতকোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ।

ডেক্স রিপোর্ট :  

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বীর প্রতীক ফজলুল হক ও তার চক্রের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাইয়ে দেওয়ার নামে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বিগত ২০১৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘাটাইলের উপলদিয়া গ্রামের বীর প্রতীক ফজলুল হক এই চক্রের মূল হোতা। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি কয়েকশ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা শহরে তিনি নিজের নামে 'টাঙ্গাইল ক্লিনিক' স্থাপন করেছেন। এছাড়া কুমুদিনী কলেজের পাশে রাজকীয় বাড়ি ও গ্রামের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এই বাণিজ্যে ফজলুল হকের প্রধান সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে ঘাটাইল উপজেলার সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম লেবু, মুক্তিযোদ্ধা শাহনেওয়াজ এবং তোফাজ্জলসহ আরও বেশ কয়েকজনের। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা দিয়েও সনদ না পেয়ে যখন তারা টাকা ফেরত চেয়েছেন, তখন তাদের রাজনৈতিক ভয়ভীতি ও এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার ভুক্তভোগী শুকুর মাহমুদ, হযরত আলী ও আব্দুল কাদেরের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা জমিজমা বিক্রি করে এই চক্রকে টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু গত ১০ বছরেও কোনো সনদ পাননি। উল্টো ফ্যাসিস্ট সরকারের দাপট দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সম্প্রতি রাজধানীর শ্যামলী থেকে সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম লেবু গ্রেফতার হলেও মূল হোতা ফজলুল হক ও তার অন্য সহযোগীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ উঠেছে, সরকার পতনের পরও এই চক্রটি পর্দার আড়ালে থেকে ষড়যন্ত্র ও ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
ভুক্তভোগী জনগণের দাবি:

অবিলম্বে বীর প্রতীক ফজলুল হক ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ফেরত দিতে হবে।
এই চক্রের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে হবে। 
প্রশাসনের নিরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ